উল্লাপাড়ায় হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে প্রথম মধু প্রসেসিং প্লাণ্ট

0

সাহারুল হক সাচ্চু: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মৌখামারীদের চাহিদার মধু প্রসেসিং প্লাণ্ট হচ্ছে । গোটা উত্তরাঞ্চলের মধ্যে প্রথম এটি হচ্ছে। এর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন ও চালুর পর খামারীরা উৎপাদিত মধুর নায্য দাম পাবেন।

উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজারে জাইকার অর্থায়নে মধু প্রসেসিং প্লাণ্টটি হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউ এন ও ) দেওয়ান মওদুদ আহমেদ গত ৮ সেপ্টেম্বর বেলা এগারোটার দিকে এর লে আউট দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান পান্না , মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিবলী ইসলাম কবিতা , উপজেলা প্রকৌশলী মঈন উদ্দীন , মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ , বড় পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর লিটন প্রমুখ । জাইকার অর্থায়নে এটি হচ্ছে । এর পেছনে ব্যয় হবে প্রায় বারো লাখ টাকা বলে জানা গেছে । সিরাজগঞ্জ জেলা ও উল্লাপাড়া উপজেলা মৌচাষী সমিতির সভাপতি বড় পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর লিটন বলেন মধু প্রসেসিং প্লাণ্টটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত উল্লাপাড়াসহ গোটা চলনবিল অঞ্চলের মৌখামারীদের বড় সমস্যার সমাধান হবে। তাদের দীর্ঘদিনের চাহিদা ও আকাংখা ছিলো উল্লাপাড়ায় একটি মধু প্রসেসিং প্লাণ্ট স্থাপন করা। সরিষা মওসুমে চললবিল অঞ্চলের উল্লাপাড়া উপজেলাতেই প্রায় তিনশো মৌখামারী সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকেন। সে সময় উৎপাদিত মধু প্রসেসিং করে সংরক্ষণ করতে না পারায় কম দামে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। মধু প্রসেসিং প্লাণ্টটি হওয়ার পর খামারীরা উৎপাদিত মধু প্রসেসিং করে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবেন। পরে তা বিক্রি করতে পারবেন। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন দেশের মধ্যে উল্লাপাড়ায় খামার পর্যায়ে সবচেয়ে বেশী মধু উৎপাদন হয়। প্রতিবছরই খামারী সংখ্যা বাড়ছে। গত সরিষা মওসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে ১ শ ১০ টি মৌখামার বসেছিল। এর মধ্যে ত্রিশ জন উল্লাপাড়ার আর বাকীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। গত মওসুমে উৎপাদিত মধুর পরিমাণ ছিল প্রায় ১ শ ৫৮ মেট্রিক টন। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের মধু প্রসেসিং প্লাণ্টটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৌখামারীদের সুবিধা ও ব্যবসায় খুবই উপকার হবে।