মুলাদীতে লুটপাট ও মৎস্য কর্মকর্তার ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মা ইলিশ রক্ষা অভিযান

0
মুলাদীতে লুটপাট ও মৎস্য কর্মকর্তার ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মা ইলিশ রক্ষা অভিযান

মুলাদী প্রতিনিধি: বরিশালের মুলাদীতে লুটপাট ও মৎস্য কর্মকর্তার ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মা ইলিশ রক্ষা অভিযান। জেলেদের ইলিশ ধরার মহোৎসব, মৎস্য অফিসের ব্যর্থতা, ঢিলেঢালা অভিযানের মধ্য দিয়ে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ২২ দিন শেষ হচ্ছে আজ। ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ২২ দিনে উপজেলায় মাত্র ২৪ জনকে আটক করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৩জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১১জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরদিকে উপজেলার ভেদুরিয়া, ষোলঘর, আবুপুর শেখেরঘাট, সফিপুর নোমরহাট খেয়াঘাট, ব্রজমোহন, চরবাটামারা, কাজিরচর কাঠেরচর, মুলাদী সদর ইউনিয়নের মিয়ারচর খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি করেছেন জেলেরা। উপজেলার আড়িয়ালখা ও জয়ন্তী নদীতে মাত্র ১টি ট্রলার দিয়ে টহল দিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নদীতে নামমাত্র মা ইলিশ রক্ষা অভিযান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযানে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এবং অপর্যাপ্ত নৌপুলিশ সদস্য ও কোস্টগার্ড না পাওয়ায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শতভাগ সফল সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজণন মৌসুমে নদীতে ইলিশ আহরণ, মজুদ, ক্রয় বিক্রয় ও পরিবহণ নিষিদ্ধ করে সরকার। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন। গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪জন জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। ওই ঘটনায় ২৪টি মামলা করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিজাম উদ্দিন ভ্রাম্যমান আদালতে ১৩জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন এবং ১১ জেলেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের আবুল কালাম ব্যাপারী জানান, এবছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের মধ্যে জেলেরা নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করেছেন। নদীর পাড়ে বিভিন্ন স্থানে হাট বসিয়ে ইলিশ বিক্রি করেছেন জেলেরা। অনেক জেলে ফ্রিজে ইলিশ মজুদ করেছেন যা আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বাজারের প্রমাণ পাওয়া যাবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অবহেলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন আবুল কালাম।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, মুলাদী উপজেলা কোস্টগার্ড নেই এবং নৌপুলিশ সদস্য অনেক কম। অভিযান পরিচালনার জন্য স্পিডবোট বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। একটি মাত্র ট্রলার দিয়ে উপজেলার আবুপুর থেকে মীরগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহায়তা পেলে অভিযান শতভাগ সফল সম্ভব ছিলো।