গণতান্ত্রিক উত্তোরণে দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে-রংপুরে ড. বদিউল আলম

0
গণতান্ত্রিক উত্তোরণে দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে-রংপুরে ড. বদিউল আলম

জয়নাল আবেদীন: সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক উত্তোরণে দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে।

যে লক্ষ্যে বীরমুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন, জুলাই যোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছেন সেটি যেন ব্যর্থ না হয়। এটি বাস্তবায়নে সকলের দায়-দায়িত্ব রয়েছে। সুজন দায়মুক্তির অভিযাত্রা শুরু করেছে। শনিবার দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

স্বদাচারণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করা এবং পরবর্তীতে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে তা যথাযথভাবে সংবিধানে অর্ন্তভুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচারণ করতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তরে দেশ স্বাধীন হলেও তার সুফল পাওয়া যায়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ধর্মনিরপেক্ষতা হয়নি, সমাজতন্ত্র হয়নি। নব্বইয়ে তিন জোটের রুপরেখা বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই অভ্যূত্থানের আকাঙ্খাও বেহাত হওয়ার শংঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসেছে কতগুলো অঙ্গীকারের ভিত্তিতে। অভ্যূত্থানের পর অগ্রাধিকার পেয়েছে নির্বাচন, সংস্কার ও পাশাপাশি বিচারের। এই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার বিষয়ে সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে। সুজন সম্পাদক বলেন, কমিশনকে নিবার্চন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। শুধু সুষ্ঠু নির্বাচই যথেষ্ট নয়।

সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে সূচনামাত্র। গণতন্ত্রের উত্তোরণ ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরন করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন সংস্কার। আইন সংস্কার, নির্বাচন অঙ্গন পরিস্কার করা, রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করা, টাকার খেলা বন্ধ করা, নাগরিক ও গণমাধ্যমকে তাদের ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই সাথে নির্বাচনকালীন সরকারকে হতে হবে নিরপেক্ষ।

যে ভোটের মাঠ সবার জন্য সমতল রাখবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনের কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলেও নির্বাচনে একটি সরকার আছে যেটা কোন দলের পক্ষপাতদুষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনও কোন সরকার দ্বারা নির্বাচিত হয়নি, তাই আশা কারছি নির্বাচনে তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। বাকী কাজগুলো করবে রাজনৈতিক দলগুলো। সংলাপে বক্তব্য রাখেন, রংপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মন্ডল, বাসদের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাবলু, আব্দুল কুদ্দস, আইনজীবি মাহে আলমসহ অন্যরা। রংপুর বিভাগের ৮ জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সুজনের সংগঠক, গণমাধ্যম কর্মীরা সংস্কার বিষয়ক নানা সুপারিশ তুলে ধরেন।