সাভারের ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট আসলে মুন্সিগঞ্জের সবুজ শেখ

0
সাভারের ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট আসলে মুন্সিগঞ্জের সবুজ শেখ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ঢাকার অদূরে সাভারে একের পর এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ‘সিরিয়াল কিলার’-এর আসল পরিচয় উন্মোচন করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ দাবি করলেও তদন্তে জানা গেছে তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের সন্তান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সবুজ শেখ অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রাখত। সে মূলত ভবঘুরে নারীদের টার্গেট করে শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদ পেতে সাভারের বিভিন্ন পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। সবুজের দাবি, ওইসব নারীরা যদি তার বাইরে অন্য কারও সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো, তবেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করত। পুলিশ বর্তমানে তার এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি যাচাই-বাছাই করছে।

সবশেষ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামের এক তরুণী এবং অন্য এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে সবুজ। ওই যুবক তরুণীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করায় প্রথমে তাকে ভবনের দোতলায় খুন করা হয়। পরে নিচতলায় তানিয়াকে হত্যা করে মরদেহ কাঁধে করে দোতলায় নিয়ে যায় সে। প্রমাণ মুছতে দুজনকে একসাথে টয়লেটে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এই ঘাতক।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সবুজের এই খুনের নেশা শুরু হয় ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। সেদিন সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মাধ্যমে তার হাতেখড়ি হয়। এরপর একে একে:

২৯ আগস্ট: কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া। ১১ অক্টোবর: একই ভবনে আরও এক নারীকে হত্যা। ১৯ ডিসেম্বর: একই স্থানে ফের এক যুবককে হত্যা। সর্বশেষ: শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে পুড়িয়ে হত্যা।

গত ১৮ জানুয়ারি সাভার থানার সামনে থেকে সবুজকে আটক করে পুলিশ। সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সে মোট ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সবুজের দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ বা সহযোগী আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।