উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষকেরা বছরের প্রধান বোরো (ইরি) ধান আবাদ শুরু করেছেন। এর আবাদে কৃষকেরা জমিতে হালচাষ , বীজতলার চারা তোলা ও লাগানোয় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা তাদের জমিতে নানা জাতের বোরো ধানের চারা লাগাচ্ছেন। উল্লাপাড়ার কৃষকদের কাছে বোরো ধান ফসল বছরের প্রধান আবাদ হয়েছে। উপজেলার সব মাঠেই কম বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এবারে সরকারের কৃষি প্রণোদনায় ৪ হাজার ১শ জন কৃষক ধান বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়তা পেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে এবারের মৌসুমে ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে বোরো ধান আবাদের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকেরা বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছেন। উল্লাপাড়ায় ব্রি-ধান ৮৯ , ব্রি ধান ৯২ , ব্রি ধান ১০০ , ব্রি-ধান ১০১, ব্রি-ধান ১০৮ , এস এল এইট এইচ জাতের ধানসহ আরো কয়েক জাতের ধান আবাদ হবে বলে জানা গেছে। কৃষকেরা এসব জাতের ধান আবাদ শুরু করেছেন বলে জানা যায়।
বিভিন্ন এলাকার মাঠে সেচ নির্ভর বোরো ধান আবাদে জমি তৈরী ও ধান লাগানোর পর পানি দিতে সেচ মেশিনগুলো চালু করা হচ্ছে। কৃষকেরা দরকার হলে সেচ মেশিন মেরামত করে নিচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে মাঠে ঘুরে কথা বলে জানা গেছে, বোরো ধান আবাদে জমি তৈরীতে পাওয়ার টিলারে তিন থেকে চারবার হালচাষ দিতে হচ্ছে। প্রথমে শুকনো জমিতে দুবার হালচাষ দিয়ে রাখা হচ্ছে । এর কদিন পর সেচ মেশিনে জমিতে পানি দিতে আরো দুবার হালচাষ ও মই টেনে মাটি সমান করে এরপর চারা লাগানো হচ্ছে।
উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা মাঠে কৃষক আ. করিম প্রায় আঠারো বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন বলে জানান। তিনি দিন পাচেক সময়ে জমি তৈরি ও আজ শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি জমিতে চারা লাগানো শুরু করেছেন। তিনি হাইব্রিড জাতের নিজস্ব বীজতলার চারা জমিতে পাচশো টাকা দিন হাজিরায় কামলা কিনে লাগাচ্ছেন। একই দিন হাজিরায় কামলা দিয়ে বীজতলার চারা তোলাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এরই মধ্যে বোরো ধান আবাদ শুরু করেছেন। এবারে সরকারের কৃষি প্রণোদনায় মোট ৪ হাজার ১ শ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ
ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জন কৃষককে বোরো উফশী জাতের ধান বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে। আর ১ হাজার ৬শ জন কৃষককে হাইব্রিড জাতের ধান বীজ দেওয়া হয়েছে।

