‘রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান নিরাপদ প্রত্যাবাসন’: জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা

0
‘রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান নিরাপদ প্রত্যাবাসন’: জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য শরণার্থী শিবিরে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাক্ষাতকালে ইভো ফ্রেইজেন রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ‘নাটকীয়ভাবে’ কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। তিনি জানান, অর্থ সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

জবাবে ড. ইউনূস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজিত হলেও রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মনোযোগ পাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শরণার্থী শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা বঞ্চিত এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি।”

বৈঠকে ভাসানচরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, অনেক শরণার্থী ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে শরণার্থীদের বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়েও তিনি কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বৈঠকে দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই, যাতে তরুণ ও নতুন ভোটারদের কাছে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।”

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি জানান, সংস্থাটির নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শন করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল মানবিক সহায়তা নয়, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ইউএনএইচসিআর-এর নতুন প্রতিনিধির হাত ধরে সংকট নিরসনে সংস্থাটি আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।