চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ নির্বাচনী প্রচারণায় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন যেখানেই পা রাখছেন, সেখানেই যেন ‘নাই’ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ! চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের এই বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পথসভা কিংবা জনসভা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে চলা এই রহস্যময় লোডশেডিংকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ বিভ্রাট নয় বরং পরিকল্পিত এক ‘ইলেকট্রিক ষড়যন্ত্র’।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ড. এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আর কাকতালীয় পর্যায়ে নেই। তিনি বলেন, “আমি গত কয়েকদিন ধরে গভীর বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, ঠিক যে সময়ে এবং যে স্থানে আমার পথসভা বা ঘরোয়া বৈঠক নির্ধারিত থাকে, ঠিক সেই সময়টুকুতেই ওই এলাকা বিদ্যুৎবিহীন করে দেওয়া হচ্ছে। বেছে বেছে দলের জনসভাস্থলকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করা কি কেবলই যান্ত্রিক ত্রুটি?”
কচুয়া উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, তারা প্রথমে বিষয়টি সাধারণ লোডশেডিং মনে করলেও পরে দেখেন পাশের গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও মিলনের সভাস্থল থাকছে অন্ধকার। স্থানীয় এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিলন ভাই যেখানে, অন্ধকার সেখানে—এটা এখন ডিজিটাল প্রহসনে পরিণত হয়েছে। আমরা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাইনি।”
বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই পরিকল্পিত বিঘ্ন সৃষ্টির বিষয়টি ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চমহলে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্বাচনের সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নষ্ট করতেই প্রশাসনের যোগসাজশে এমন ‘অন্ধকার রাজনীতি’র আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে একে ‘টার্গেটেড লোডশেডিং’ বলে অভিহিত করছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

