আদালত প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে শেখ রেহানার তিন সন্তান— টিউলিপ সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
আদালত এই মামলায় আসামিদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও প্রদান করেছেন। রায়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

দুদকের দায়ের করা চার্জশিট অনুযায়ী, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচলের কূটনৈতিক জোনে (সেক্টর ২৭) ১০ কাঠার দামি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ও আফনান জান্নাত কেয়া পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে ১১ নম্বর এবং আজমিনা সিদ্দিকের নামে ১৯ নম্বর প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত শেষে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।
সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিনসহ রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা এবং এস্টেট ও ভূমি শাখার একাধিক পরিচালক ও উপ-পরিচালককে এই দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করার পরিণাম আজ দেশবাসী দেখল।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা এটি। আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানা গেছে।

