আদালত প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তরায় ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার গভীর রাতে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসভবন থেকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রোমের মিয়া আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজু আহমেদ তাদের জামিন নাকচ করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভালো থাকা ও বিয়ের খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা জানান: গত ২ নভেম্বরের পর থেকে পরিবারকে শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটি অসুস্থ বলে পরিবারকে জানানো হয়। পরিবার তাকে উদ্ধার করতে গেলে শিশুটির শরীরে গুরুতর জখম ও পোড়া দাগ দেখতে পায়। হাসপাতালে ভর্তির পর শিশুটি জানায়, তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।
“পেটের দায়ে ১১ বছরের শিশুটিকে পরিবার কাজে দিয়েছিল। কিন্তু ওই বাসায় ঢোকার পর থেকেই তাকে প্রতিনিয়ত অত্যাচারে জর্জরিত করা হয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।” এসআই তাহমিনা আক্তার (প্রসিকিউশন পুলিশ)
আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন আদালতে দাবি করেন, সাফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তিনি কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকেন। এসব নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বা তার অসুস্থ স্ত্রী কিছুই জানতেন না। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, শিশুটির ওপর অত্যন্ত বীভৎসভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

