ভোটের আগেই অ্যাকশনে ইসি: ঢাকায় জামায়াত নেতাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড

0
ভোটের আগেই অ্যাকশনে ইসি: ঢাকায় জামায়াত নেতাসহ ৭ জনের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ভোটের আগের দিন নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিন স্থানীয় নেতা-কর্মী রয়েছেন। বুধবার দিনভর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পৃথক অভিযানে এই সাজা প্রদান করেন।

পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের প্রস্তুতিকালে হাবিবুর রহমান (৬৩) নামে জামায়াতের এক কর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আটক ব্যক্তি: মো. হাবিবুর রহমান, সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির।

জব্দকৃত আলামত: ১২টি খামে মোট ৬,০০০ টাকা (প্রতি খামে ৫০০ টাকা করে)।

ঘটনাস্থল: সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সম্মুখভাগ। জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

রাজধানীর মিরপুরে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের দায়ে জামায়াত প্রার্থীর দুই পোলিং এজেন্টকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)। এছাড়া দায়িত্ব অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনি বিধি অমান্য করে বিভিন্ন অপরাধে আরও ৪ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে:

ওয়ারি বিভাগ: সন্তোষজনক কারণ ছাড়া ঘোরাফেরা করার অপরাধে একজনকে এক মাস এবং অন্যজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মতিঝিল বিভাগ (মুগদা থানা): পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দুই ব্যক্তিকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান।

“জনগণের হাতে ধরা পড়ার পর এবং পুলিশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ৭৫ ধারায় এই সাজা প্রদান করা হয়েছে।” — ডিএমপি বিজ্ঞপ্তি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট চলাকালীন এবং ভোটের আগে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ড্রোনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকশ টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিচারের এই ধারা আগামীকাল ভোটগ্রহণের দিনও অব্যাহত থাকবে।