বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ পুরান ঢাকার রিকশা-ভ্যানের জটলা আর মানুষের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতেই নাকে লাগে সরিষার তেল ও ভাজা কাবাবের ম ম গন্ধ। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রথম রমজানের দুপুর গড়াতেই রাজধানীর চকবাজার শাহী মসজিদের সামনের সড়ক পরিণত হয়েছে এক বিশাল ইফতারের বাজারে। দীর্ঘ ৪০ বছরের ঐতিহ্য আর আধুনিক স্বাদের সংমিশ্রণে এবারও চকবাজার তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।
চকবাজারের ইফতারি মানে শুধু খাবার নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। এখানে অনেক বিক্রেতা আছেন যারা বংশপরম্পরায় এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
রহমানগঞ্জের ঐতিহ্য: মোহাম্মদ ইসলাম হাবিবের মতো বিক্রেতারা গত ২০-৩০ বছর ধরে বড় বড় গামলা বা ‘বোল’ সাজিয়ে নিয়ে আসেন। তাদের দাবি, পুরান ঢাকার ইফতারের আসল বিশেষত্ব হলো এর বিশুদ্ধতা। ৩৮ বছরের দই-বড়া: খোকন মিয়ার ঐতিহ্যবাহী শাহী দই-বড়া ও বোরহানি চকবাজারের অন্যতম আকর্ষণ। দোকানের বিক্রেতা মাসুম ইসলাম বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এখানে আছি। মানুষ আমাদের বিশ্বাসের ওপর আসে, আর আমরা মানের সাথে কখনো আপস করি না।”

বাজারের বড় প্রতিষ্ঠান যেমন হোটেল আমানিয়া থেকে শুরু করে অস্থায়ী ছোট দোকান—সবখানেই দামের রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। ক্রেতাদের সুবিধার্থে একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আভিজাত্য বজায় রাখতে চিকেন ও কবুতরের নানা পদ সাজানো হয়েছে টেবিল জুড়ে: আস্ত লেগ রোস্ট ৮০০ টাকা , লেগ রোস্ট ৩২০ টাকা। চিকেন আলফাহাম ৫২০ টাকা। আস্ত চিকেন রোস্ট ৪২০ টাকা, চিকেন গ্রিল (ফুল) ৪৮০ টাকা। কোয়েল রোস্ট ১২০ টাকা ,কবুতর রোস্ট: ৩০০ টাকা।
চকের ইফতারি পূর্ণ হয় না জিলাপি আর লাবাং ছাড়া:
রেশমি জিলাপি: ৫০০ টাকা (কেজি) | সাধারণ জিলাপি: ২৮০ টাকা (কেজি)। ফালুদা: ১২০ টাকা (ছোট বাটি) ও ৫০০ টাকা (বড় বাটি)। লাবাং (ঐতিহ্যবাহী): ২৫০ টাকা (লিটার)। বোরহানি: ২০০ টাকা (লিটার) ও ১০০ টাকা (হাফ লিটার)। দই-চিড়া: ১০০ টাকা (প্রতি বাটি)।
জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বমূল্যের উত্তাপ লেগেছে ইফতার বাজারেও। হোটেল আমানিয়ার বিক্রেতারা জানান, খরচ বাড়লেও তারা চেষ্টা করছেন সাধ্যের মধ্যে সেরা স্বাদ দিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “জ্যাম ঠেলে আসলাম শুধু চকের সেই বিশেষ ভাইব নিতে। জিলাপি ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ।”অন্যদিকে, প্রবীণ ক্রেতা আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বলেন, “আগে আইটেম কম ছিল কিন্তু স্বাদ ছিল অটুট। এখন অনেক নতুন পদ যোগ হয়েছে, নাতি-নাতনিদের জন্য বড় বাটির ফালুদা আর লাবাং নিয়ে যাচ্ছি।”
পুরান ঢাকার ইফতারি কেনা মানে শুধু বাজার করা নয়, এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার আনন্দ। যানজট আর ভিড় ছাপিয়ে হাজারো মানুষের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, চকবাজার আজও ঢাকাইয়া ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

