চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
পৌরসভার গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারার শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে শিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী পক্ষ বিএনপি নেতা নান্নু প্রধানের অনুসারীদের শিডিউল জমা দিতে বাধা প্রদান করেন।
যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারী জানান, নির্ধারিত সময় দুপুর ১টার পর শিডিউল জমা দিতে আসায় তারা বাধা দিয়েছেন। এই সময় তাদের পক্ষের সফিল্লাহ (৩৫) নামে একজন মারধরের শিকার হন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘কারসাজির’ অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেন, “নির্ধারিত তিনটি স্থানে টেন্ডার বাক্স রাখার কথা থাকলেও শুধুমাত্র পৌরসভায় রাখা হয়েছিল। আবু সাঈদ ও উজ্জ্বল ফরাজী গংরা আমাদের বাধা দিয়ে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।” তারা এই ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জোর দাবি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মন্ডল জানান, “শিডিউল জমা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিবাদমান পক্ষগুলোকে ফৌজদারি আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মাত্র ৫ মিনিট আগে একপক্ষ আসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, সাতটি স্পটের বিপরীতে মোট সাতটি শিডিউলই জমা পড়েছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

