বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ থেকে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা। আর এই যাত্রার শুরুতেই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা ও বর্তমান সরকারের প্রশংসা করে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে জুলাই বিপ্লবের চেতনা, দুর্নীতি এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চালচিত্র।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার ফলেই ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিষ্ফোরণ ঘটেছিল, যা শেষ পর্যন্ত একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই বিপ্লব ছিল দেশের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকারের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
রাস্ট্রপতি গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মৃতি ধরে রাখতে নেওয়া বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের পর গণতান্ত্রিক ধারা পুনর্গঠনে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প কেবল দারিদ্র্য বিমোচন নয়, বরং নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সঠিক তথ্য জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার শিগগিরই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। কৃষি ও অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রাষ্ট্রপতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রপতির এই দীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরুতেই এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়কেই গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রাস্ট্রপতি বিলেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়—এই আদর্শকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।” ।

