নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত তেল না দেওয়ায় একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তেল ভর্তি করে টাকা না দিয়েই চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কুশাবো এলাকায় ‘পূর্বাচল মডেল ফিলিং স্টেশনে’ এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহীন জানান, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমানের সহযোগী এবং গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আরমানের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন যুবক ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে স্টেশনে আসে।
তারা নিয়ম তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো বিপুল পরিমাণ অকটেন দাবি করে। কর্তৃপক্ষ এতে অপারগতা প্রকাশ করলে আরমান ও তার সহযোগীরা উত্তেজিত হয়ে স্টেশনের কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলায় গুরুতর আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন শাহীন (ম্যানেজার), সাকিব (ক্যাশিয়ার), মোরশেদ , আব্দুল্লাহ , সোহাগ
মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তাদের মোটরসাইকেলগুলোতে অকটেন ভর্তি করে এবং কোনো টাকা না দিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাবে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে সাধারণ যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ হাসান সোহান এবং রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর ফিলিং স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ফরিদ হাসান সোহান সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে এটি চালু করেছি। হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, উপজেলার প্রতিটি পাম্পে বর্তমানে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

