৩ মে থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান: ‘করোনার মতোই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’

0
৩ মে থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান: 'করোনার মতোই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি'

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী ৩ মে থেকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় একযোগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ রোববার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা করোনার মহামারির চেয়ে কম উদ্বেগজনক নয়।”

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় বিশেষ টিকাদান শুরু। বাকি সকল জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে টিকাদান শুরু হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মোট আক্রান্তের ৮২ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই প্রথম পর্যায়ে এই বয়সীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, করোনাকালে সাশ্রয় হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে নতুন করে হামের ভ্যাকসিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, টিকাদানে আগের সরকারের গাফিলতির কারণেই বর্তমানে হামের প্রকোপ ‘বজ্রপাতের মতো’ হঠাৎ বেড়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ৩০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো:

যে ৩০ উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো- বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।

শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে হামের টিকা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব শিশুকে টিকার আওতায় এনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা।