ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় হচ্ছে না সংযোগ সড়ক, আড়াই বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় ১৯ কোটির সেতু

0
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় হচ্ছে না সংযোগ সড়ক, আড়াই বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় ১৯ কোটির সেতু

গাজীপুর প্রতিনিধি: গুরুত্বপূর্ণ বরমী গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়কে রাতদিন ২৪ ঘন্টা চলাচল করে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন। বরমী বাজারের পাশেই মাটিকাটা নদীর উপর নির্মিত সরু সেতু। সেতুটি দিয়ে একটি গাড়ি উঠে গেলে অপরপ্রান্তের গাড়িটি ক্রসিং করতে পারেনা।

তাই সেতুর দুই প্রান্তে লেগে থাকে সবসময় যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা। জনভোগান্তি দূর করতে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯৭.৩৪ মিটারের একটি সেতু। সেতুর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কোন সুফল পাচ্ছে না এই সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার পরিবহনের যাত্রীরা। সংযোগ সড়কের অভাবে কোন কাজেই আসছে না ১৯ কোটি টাকার সেতু। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনের পর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা জানিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সওজ কর্তৃপক্ষ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দায় ভূমি অধিগ্রহণ কতৃপক্ষের বলছে জমির মালিকরা।

উপজেলার বরমী আঞ্চলিক সড়কের মাটিকাটা নদীর উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সওজ ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একটি সেতুটি নির্মাণ করেছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯৭.৩৪ মিটার। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে এটি তৈরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ততকালীন সংসদ। ২ বছর ১০ মাসের মাথায় শেষ হয় নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালে। সেতুর পাইটালবাড়ি প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ১ একর ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করা এসব জমিতে ১৭ টি পরিবার বসবাস করছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না স্থানীয়রা। যাঁর জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। মেসার্স আর পি কন্ট্রাকশন ও এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে দুটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে সেতু তৈরির কাজ শেষ করলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে রয়েছে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ।

সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখাযায়, মাটিকাটা নদীর উপর ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ। সেতুর বরমী বাজার অংশে ব্যবসায়ীরা বিশাল কাঠ মজুদ করে রেখেছেন। অনেকেরই সেতুর উপর বসে আড্ডা দিচ্ছে। সেতুর পাইটালবাড়ি অংশে পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য বেশকিছু মাটি বালির বস্তা দিয়ে সেতুতে উঠছে। সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে রয়েছে ঘনবসতি। সেতুর রেলিংয়ের দুপাশে রয়েছে দামি সড়ক বাতি। রাত হলেই উজ্বল বাতিগুলো একসঙ্গে জ্বলে ওঠলেও এখন নষ্ট। পুরো সেতু অন্ধকার থাকে রাতভর। সেতুর পাইটালবাড়ি অংশে গিয়ে দেখা মিলে বিচিত্র এক দৃশ্যের। আধুনিক সেতুটি একপ্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোন কাজেই আসছে না ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুর। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ কষ্ট করে সেতুতে ওঠে যাতায়াত করছে। সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ জটিলতার জন্য স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ভূমি অধিগ্রহণ কতৃপক্ষের দিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিমন বলেন, বরমী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাটিকাটা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে একটি আধুনিক সেতু। ঐতিহ্যবাহী বরমী বাজারকে নদীর অপরপ্রান্তে পাইটালবাড়িকে যুক্ত করার কথা। এই সেতুর মাধ্যমে বরমী- গফরগাঁও সড়কের বরমী বাজার অংশে বাইপাস যাত্রায় দূরত্ব কমে যাওয়ার কথা ছিলো। একই সঙ্গে বরমী বাজারের নিত্যদিনের যানজট থেকে মুক্তি মেলার কথা ছিলো। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই যানজট, সড়কের দীর্ঘ যাত্রা ও দুই পাড়ের মানুষের যাতায়তে দুর্ভোগ রয়েই গেছে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে। আমরা যতদূর জানি ভূমি অধিগ্রহণ কতৃপক্ষ স্থানীয় জমির মালিকদের জমির কাগজপত্র ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সে কারণে স্থানীয় ভূমি মালিকগণ জমির ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। এজন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ হচ্ছে না।

পাইটালবাড়ির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২০২৩ সালে সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ৩ বছর আগে সেতু তৈরি হলেও পাইটালবাড়ি অংশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। জমির মালিকদের টাকা না দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে পারছে না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা টাকার জন্য সওজ অফিসে গিয়েও সুফল মিলছে না। তারা টাকা না পেলে নিজেদের ভূমি ছাড়বেন না। যাঁর কারণে সংযোগ সড়ক হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ারা বলেন, সেতুতে উঠতে গিয়ে কোমড় ভাঙছি। অনেক টাকা যাচ্ছে চিকিৎসায়। এখনও কেন এই কাজ হচ্ছে না। খুবই কষ্ট হচ্ছে আমাদের।

এমদাদ হোসেন বলেন, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে মানুষের ভোগান্তি লাগবে। সেতু নির্মাণ শেষ হলেও জনসাধারণের একটুও উপকারে আসছে না সংযোগ রাস্তার জন্য। এধরণের ভুল পরিকল্পনার জন্য সরকারি অর্থের অপচয় হয়। আমরা চাই জমি অধিগ্রহণ জটিলতা শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যান চলাচল শুরু করে।

সড়ক ও জনপদ গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে সম্পুর্ণ টাকা আমরা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমা দিয়েছি। জমির মালিকদের কাগজপত্রের জটিলতার কারণে তাদেরকে টাকা দেয়া হয়নি। জটিলতা শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি মালিকরা তাদের টাকা পাবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের কাজ হবে।