ক্রেতা সেজে ব্যস্ত রাখা হতো বিক্রেতাকে, ক্যাশ ফাঁকা করত ৭ বছরের শিশু! বড়লেখায় অভিনব চুরির হোতা দুই নারী গ্রেপ্তার

0
ক্রেতা সেজে ব্যস্ত রাখা হতো বিক্রেতাকে, ক্যাশ ফাঁকা করত ৭ বছরের শিশু! বড়লেখায় অভিনব চুরির হোতা দুই নারী গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাকাটার ছলনা করে অভিনব কায়দায় ৫ লাখ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বোরকা পরা দুই নারী বিক্রেতাকে ব্যস্ত রাখার সুযোগে, তাদের সাথে থাকা মাত্র সাত বছরের এক শিশুকে দিয়ে ক্যাশবাক্স থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে আইনের সংঘাতে জড়িত ওই অবুঝ শিশুটিকেও উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ শাহবাজপুর বাজারের ‘রাসেল ভেরাইটিজ স্টোর’ নামের একটি বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে।

বোরকা পরিহিত দুই নারী সাধারণ ক্রেতার বেশে দোকানে প্রবেশ করে। তারা একের পর এক পণ্যের দাম জিজ্ঞেস করে এবং বিভিন্ন মালামাল দেখানোর কথা বলে দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সম্পূর্ণ ব্যস্ত ও বিভ্রান্ত করে ফেলে। বিক্রেতাদের নজর এড়িয়ে যাওয়ার ঠিক ওই মুহূর্তে, তাদের সাথে থাকা আনুমানিক ৭ বছরের শিশুটিকে চোখের পলকে ক্যাশবাক্সের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটি দ্রুত ৫ লাখ টাকা সরিয়ে বোরকার আড়ালে নিয়ে নেয় এবং তারা নির্বিঘ্নে দোকান থেকে বেরিয়ে যায়।

টাকা চুরির বিষয়টি টের পাওয়ার পর দোকান মালিক পুলিশকে অবহিত করেন। বড়লেখা থানা পুলিশ দোকানের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ শুরু করে। ফুটেজে বোরকা পরা নারীদের সাথে শিশুটির চুরির দৃশ্য পরিষ্কার ধরা পড়লে পুলিশ আসামিদের শনাক্তে মাঠে নামে।

সিলেটের বিশ্বনাথ থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার প্রথমে মূল অভিযুক্ত স্মৃতি রানি শাহজি ওরফে স্মৃতি বেগম (৩১) এবং শিশুটিকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দক্ষিণ সুরমার ওমর কবর কাশবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সহযোগী শানু বেগমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বড়লেখা থানার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা কোনো সাধারণ চোর নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য।

তারা মূলত সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন ব্যস্ততম বাজারে বোরকা পরে ঘুরে বেড়াত। কোনো শিশুকে সাথে রাখলে সাধারণ মানুষের সন্দেহ কম হয়—এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তারা শিশুদের অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই নারীদের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী আসামিকে চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশুটির বয়স ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে আইনি নমনীয়তা দেখানো হয়েছে। বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, “আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুটিকে ‘শিশু আইন, ২০১৩’ এর ধারা ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশন অফিসার এবং শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার পরামর্শে তার নানীর জিম্মায় (নিরাপদ হেফাজতে) হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত জারি রয়েছে।