উল্লাপাড়ায় পাটের ভালো ফলন- দামে হাসি মুখে কৃষক

0
উল্লাপাড়ায় পাটের ভালো ফলন- দামে হাসি মুখে কৃষক

উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাটের আবাদ ফি বছর বাড়ছে| এবারে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ বেড়েছে| উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আবাদের পাট হাটে বেচাকেনা হচ্ছে| কৃষকেরা আগাম আবাদের পাট কাটা, জাগ দেওয়া, এরপর জাগ আসা পাট ধোয়া ও শুকানোর পর টাকার দরকারে হাটে বেচছেন| আবার কোনো কোনো মাঠে এখন পাট কাটা চলছে| আর কৃষকেরা বলছেন নাবি আবাদের পাট আরো দেরিতে কাটা হবে| এলাকার হাটগুলোয় নতুন পাট তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে| কৃষকেরা পাটের এখনকার দামে খুশি বলে জানা গেছে|

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে এক হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছিল| সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হেক্টর বেশি মোট এক হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে| উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি প্রণোদনায় বিভিন্ন এলাকার ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে তোষা পাট বীজ ও দুরকমের রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছিল| উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা দেশি, তোষা, মেছতা ও কেনাফ জাতের পাট আবাদ করছেন বলে জানা গেছে|

কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উচু মাঠে নানা জাতের পাটের আবাদ করেছেন| কোনো কোনো এলাকায় মাঠে কৃষকরা বোরো ধান কেটে সে জমিতে পাট আবাদ করেছেন| উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, সলঙ্গা, হাটিকুমরুল, বাঙ্গালা, বড়হর, সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় পাটের আবাদ করা হয়েছে| এসব ইউনিয়ন এলাকায় বোরো ধান কাটার পর বন্যার পানিতে ডোবে না এমন অনেক জমি পতিত না রেখে কৃষকরা পাট আবাদ করেছেন বলে জানা গেছে| কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে , পাটের জাতগুলো হলো- তোষা, দেশি, মেছতা, কেনাফ, আসমান তারা| উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আবাদ করা পাট আগে কাটা হয়েছে| আগাম আবাদের পাট কৃষকেরা কেটে জাগ দিয়ে রাখা , এরপর জাগ আসা পাট ধোয়া ও শুকানোর পর ঘরে তুলেছেন| জানা গেছে এর মধ্যে সংসারে টাকার দরকারে কৃষকদের অনেকেই পাট বেচছেন|

এদিকে কোনো কোনো এলাকায় মাঠে এখন পাট কাটা চলছে| একেবারে নাবি করে আবাদ করা পাট জমি থেকে দুই থেকে আড়াই-তিন সপ্তাহ বাদে কাটা শুরু হবে বলে কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে| উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের মো. ছাইদুল ইসলাম প্রায় তিন বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা জাতের পাটের আবাদ করেছেন| তিনি নদীতে কাটা পাট জাগ দিয়েছেন| দিন তিনেকের মধ্যে পাট ধোবেন বলে জানান| আজ মঙ্গলবার আরো বিঘা খানেক জমির পাট নদীর পানিতে জাগ দেবেন বলে জানান| একই গ্রামের আব্দুর রউফ আগাম আবাদের পাট ধোয়ার পর শুকিয়ে বাড়ীতে রেখেছেন| পাটের ভালো ফলনে খুশি বলে জানা গেছে| এলাকার আরো কয়েকজন কৃষক বলেন আর দিন কয়েকের মধ্যে তারা পাট কেটে জাগ দেবেন| উল্লাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় কাচা পাট পলিথিনে ঢেকে পানিতে জাগ দেওয়া হচ্ছে| কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায় পাটের রং ধবধবে সাদা করতে, উজ্জলতা বাড়ানোয় পলিথিন দিয়ে পুরো পাট জাগ ঢেকে রাখা হচ্ছে| এভাবে দেওয়া হলে কম দিনে পাট জাগ আসে বলে জানানো হয়|

বড় পাঙ্গাসী এলাকায় একটি জলাশয়ে আবাদের পাট কেটে জাগ দেওয়াকালে পুরো পাট জাগ পলিথিনে ঢেকে দিতে দেখা গেছে| পুরো পাট জাগ পলিথিনে ঢেকে এর উপর হালকা মাটি দিয়ে রাখা হচ্ছে| বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান সব এলাকাতেই এবারে ভালো হারে পাটের ফলন মিলছে| বিঘা প্রতি সাত থেকে আট মণ হারে ফলন মিলছে বলে জানানো হয়| এখনো সব মাঠে বন্যার পানি হয়নি| বন্যার পানি না হওয়ায় নাবি আবাদের পাট দেরিতে কাটা শুরু হবে বলে তারা বলেছেন|

উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটগুলোয় খোজ নিয়ে ও পাট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে পাটের দর দাম জানা গেছে| তাদের কথায় দেশি সাদা জাতের এক মণ পাট তিন হাজার ৬০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকা, তোষা জাতের পাট তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে| এছাড়া কেনাফ মেছতা চার হাজার টাকা থেকে চার হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে| পাট ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার উল্লাপাড়া হাটে মোটামুটি পরিমাণ পাট কেনাবেচায় আমদানি হয়েছিল| বেশির বেশিরভাগ পাট আবাদকারি কৃষকেরা বেচতে এনেছিলেন| এছাড়া বেড়া হাটসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফরিয়া ব্যবসায়িরা পাট এনে বেচেছেন| উল্লাপাড়া থেকে ফরিদপুর , খুলনা , বগুড়া , কুষ্টিয়া ও আরো বিভিন্ন মোকামে পাট ট্রাকে ব্যবসায়িরা পাঠান| সেখানে কেনাবেচা হয়| ফরিয়া ব্যবসায়ি মানিক মিয়া বলেন তার সাথে আরো একজন ভাগে পাটের ব্যবসায় হাটে হাটে পাট কিনে হাটেই বড় ব্যবসায়িদের কাছে বেচেন| গতকাল সোমবার হাটে তারা ব্যবসায় দুই হাজার আটশো টাকা লাভ ( আয়) করেছেন|

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সূবর্ণা ইয়াসমিন সূমী বলেন, এবারে ভালো ফলনে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি হবে বলে আশা করছেন| উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এবারে কৃষি প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২৫০ জন কৃষককে বিনামূল্যে এক কেজি করে তোষা পাট বীজ এবং ডিএপি ও এমওপি রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছিল| কৃষকদের অনেকেই বীজ কিনে পাট আবাদ করেছেন| কৃষি অফিস থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ, পাট বীজ উৎপাদনে পরামর্শ সহায়তা দেওয়া হয়ে আসছে| পাটের রং ধবধবে সাদা ও উজ্জলতা বাড়াতে নদীতে , বদ্ধ জলাশয় নয় এমন জায়গায় পাট পচানো (জাগ দেওয়া) র পরামর্শ দেওয়া হয়| এলাকার পাট চাষিরা পাট আবাদে লাভবান হচ্ছেন| পাটকাঠি (পাট সোলা) নানামুখী ব্যবহার হচ্ছে| পাটকাঠি বেশ চড়া দামে কেনাবেচা হচ্ছে|