সার্কিট হাউজের ভেতরেই এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত একাধিক: বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
সার্কিট হাউজের ভেতরেই এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত একাধিক: বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে সরাসরি হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে এই তাণ্ডব চালিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সমাবেশস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সার্কিট হাউসে ফেরার সময়ই হামলাকারীরা তাদের ঘেরাও করে।

হামলাকারীরা এনসিপির মিডিয়া টিমের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি সার্কিট হাউজের ভেতর ঢুকিয়ে ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, উপস্থিত সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয় ও ভাঙচুর চালায়।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ জানান, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও নেতাকর্মী মারাত্মক রক্তাত ও জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ আহমেদ (ভিডিওগ্রাফার, এনসিপি), আরাফাত সানি (মোবাইল জার্নালিস্ট, মিডিয়া সেল), আসলাম হোসাইন (গাড়িচালক), মোশারফ (কনটেন্ট ক্রিয়েটর), শাহরিয়ার (ভিডিও এডিটর)

সহিংসতার ঘটনায় দুটি পূর্ণাঙ্গ ক্যামেরা সেটআপ, একটি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ম্যাকবুক ও দুটি স্মার্টফোন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি।

হবিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন। সার্কিট হাউজের ভেতরে পুলিশ সদস্যরা নিষ্ক্রিয় ও নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।