
জয়নাল আবেদীন: বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাইবার অপরাধ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে সংঘটিত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রথমেই আইনগত প্র্রতিকার গ্রহণ করতে বলেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।সোমবার বিকেলে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ সাপোর্ট অফিসের উদ্যোগে ক্যাফেটোরিয়া অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে আরপিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাইবার অপরাধ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে সংঘটিত হচ্ছে। তাই অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, ভুয়া পরিচয়, এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।আবদুল মাবুদ বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার হলে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আইনগত প্রতিকার গ্রহণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির বাদী হিসেবে মামলা দায়ের করা।
যথাযথ অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সক্ষম।পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কোনো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে তথ্য মুছে ফেলা হলেও আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট এবং প্রকৃত ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আদালতে ডিজিটাল প্রমাণ ও বিশেষজ্ঞের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অপরাধের শিকার হলে ভয় বা সংকোচ না করে আইনগত সহায়তা গ্রহণ, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
