মাদক-চোরাচালান রোধে মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির ব্যাপক অভিযান

0
মাদক-চোরাচালান রোধে মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির ব্যাপক অভিযান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মোঃ জালাল উদ্দিন। মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করে বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়ন (শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন)। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি।

তিনি বলেন, মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটার গান। এ ছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে বিজিবি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে বিজিবির মানবিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতেও চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।