
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে মা ও অভিভাবক সমাবেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দূরে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা জজ কোর্টের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি, সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম কাজল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, মোরেলগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. জাকির হোসেন মল্লিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান তালুকদার, দৈবজ্ঞহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযূষ কান্তি, দৈবজ্ঞহাটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান গাজী, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি খান ফেরদাউসুর রহমান, পুটিখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল আমিন সোহাগ, ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান তুষার।
এছাড়াও ২০৭ নম্বর গাবগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক, ২৬ নম্বর জোকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল হাওলাদার, ২০৪ নম্বর বেতকাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোলায়মান তালুকদার, বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলামিন সরদার, সহকারী শিক্ষক মো. আলামিন শেখ, অভিভাবক মো. সরোয়ার খানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের শুরুতেই বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম কাজলকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা, অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে তাঁর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কখন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, কী পড়ছে, কার সঙ্গে মিশছে, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করছে এবং তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করালেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও সময়োপযোগী নজরদারি।
মা ও অভিভাবক সমাবেশে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ উঠে আসে।
এ সময় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
বক্তারা বলেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে বিদ্যালয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবারের ভূমিকাও অপরিসীম। শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের গান, কবিতা, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে সবাই শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং তাদের প্রতিভার প্রশংসা করেন।
একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এ মা ও অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষক-অভিভাবকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
