শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ নিজের স্কুলেই চলত ‘পরকীয়া গুরু’র পাঠদান! সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীকে ইমুতে (imo) আপত্তিকর বার্তা পাঠানো আর গোপন প্রেম নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। শেষ পর্যন্ত সহকর্মীর বউয়ের সাথে অনৈতিক প্রেমের খেসারত দিয়ে চাকরি থেকে বাধ্য হয়ে বিদায় নিতে হলো ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়াকে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ তাঁকে এই গুরুদণ্ড দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার ঘর থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকর্মীর সাবেক স্ত্রী শাহানাজের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নজর ছিল প্রধান শিক্ষক আসাদ মিয়ার। মোবাইল অ্যাপ ইমুতে (imo) নিয়মিত চলত চোখ ধাঁধানো চ্যাটিং ও আপত্তিকর বার্তা আদান-প্রদান। এই ‘গোপন পিরিতি’র খবর জানাজানি হতেই দুই শিক্ষকের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিরোধ ও রক্তচক্ষু কোন্দল। স্কুলেই ছড়িয়ে পড়ে মুখরোচক নানা গুঞ্জন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। তদন্তের ধাপে ধাপে বের হয়ে আসে সম্পর্কের হাঁড়ির খবর অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলা হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লিখিত জবাব দেন ও শুনানিতে হাজির হন। নিরপেক্ষ তদন্তে ইমু চ্যাট ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগটি অসদাচরণ হিসেবে পুরোপুরি প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় দফায় জবাব চাইলেও তাঁর অজুহাত কর্তৃপক্ষের মন গলাতে পারেনি। ফলে তাঁকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি হয়।
ঘটনা এতদূর গড়ালেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া যেন কিছুই বোঝেন না! তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না, আমার কাছে কোনো চিঠিও আসেনি।”
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিভাগীয় কার্যালয়ের আদেশের চিঠি ইতোমধ্যেই ভেদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। আর ধরা পড়া প্রধান শিক্ষক মশাই আপাতত গা-ঢাকা দিয়ে ছুটিতে রয়েছেন!

