পরকীয়ার অপবাদে নারী-পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে ১৬ ঘণ্টা মধ্যযুগীয় নির্যাতন

0
পরকীয়ার অপবাদে নারী-পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে ১৬ ঘণ্টা মধ্যযুগীয় নির্যাতন

ফেনী প্রতিনিধিঃ ফেনীর সোনাগাজীতে নৈতিকতার অবক্ষয় ও চরম আইন হাতে তুলে নেওয়ার নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। কথিত পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের জননী এক নারী ও দুই সন্তানের জনক এক পুরুষকে টানা ১৬ ঘণ্টা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী পৌরসভার পূর্ব চরগণেশ এলাকার বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার (চার সন্তানের জননী) বাড়িতে আত্মীয়তার সুবাদে বেড়াতে যান চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাজার সংলগ্ন অলি মাঝি বাড়ির বাসিন্দা এরশাদউল্লাহ (দুই সন্তানের জনক)।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশী ও স্থানীয় একদল লোক কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরকীয়ার অভিযোগ তুলে বাড়ি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তাদের টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে আসা হয় এবং রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে সারা রাত ও পরদিন দুপুর পেরিয়ে বিকেল পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টা ধরে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতন চালনোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশের নামে ওই নারীর ওপর তাঁর স্বামীর সাথে তাৎক্ষণিক বিবাহবিচ্ছেদের (তালাক) জন্য প্রচণ্ড মানসিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে।

ঘটনার দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এরকম মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালানোর অধিকার কারও নেই। ঘটনার সাথে জড়িত নির্যাতনকারী ও উসকানদাতাদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং এই ঘটনায় দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।