ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ “আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না; সংঘাতের বদলে সমঝোতা ও সহিষ্ণুতার রাজনীতি দেখতে চাই,” বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জন্মভূমিতে প্রথম দুই দিনের সরকারি সফরে এসে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর। বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষের অভূতপূর্ব ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজকের এই গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। তিনি দেশে সর্বস্তরের নাগরিকের সমান অধিকার এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদ দেন।
গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘাত পরিহারের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সহিষ্ণুতা। ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না। মতবাদ যার যার, কিন্তু দিনশেষে সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলাকে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন:
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ এবং ভিসি নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতি নিজ হাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
কাঙ্ক্ষিত মেডিকেল কলেজের স্থান নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়ায় আগামী বছর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভূল্লী ও রুহিয়াকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তর করে ইতোমধ্যে ইউএনও পদায়ন করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালু ও টিকিয়ে রাখতে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তিনি। জেলাটিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি ভারী শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে সরকারের অর্থ উপদেষ্টা, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং চীনের রাষ্ট্রদূত সরেজমিনে অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন। চীনা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এখানে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ যুবকদের শুধু চাকরি ও ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা ঠাকুরগাঁও জেলা থেকেই শুভ সূচনা করা হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ঐক্যের বার্তা স্মরণ করে প্রতিশোধের রাজনীতির বদলে ভালোবাসার সমাজ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিখ্যাত কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

