জয়নাল আবেদীন: রংপুরে ডেংগুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিনারা বেগম এবং প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জান্নাতি বেগম নামের আরেক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
মিনারা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হন পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মিনারা বেগম। ভর্তির পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে মিঠাপুকুরের জান্নাতি বেগম ডেংগু রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বেসরকারি প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার দুপুরে মারা যান।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে প্রচন্ড দুর্বলতা, পেটব্যথা, বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেই সুস্থ হয়ে গেছেন এমনটি মনে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।রংপুর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডেংগুতে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর বা ডেংগুর উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।তিনি আরও বলেন, ডেংগু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
একই সঙ্গে জ্বর হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেগু আক্রান্ত হয়ে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগে ডেংগু রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বমোট ৪৩৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

