কলি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল পাবনা, আদালত-ডিসি অফিস ঘেরাও

0
কলি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল পাবনা, আদালত-ডিসি অফিস ঘেরাও

ঈশ্বরদী প্রতিবেদক: পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালত ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্ত শেষ করে সাত দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধরা পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ঘেরাও করেন। পরে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় কলি হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন কলির বাবা কামাল হোসেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম, ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেলসহ শত শত মানুষ।

পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা তথ্য গোপনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।

সমাবেশে কয়েকজন বক্তা আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালে সামাজিকভাবে তাদের বয়কটের হুমকি দেন। একই সঙ্গে বিচার নিশ্চিত না হলে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভাঙচুর করা বাড়ির স্থানে কলির নামে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন।

পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এদিকে আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে শুক্রবার ও শনিবার দিনভর হামলা ও ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ লোকজন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহুতল ভবনটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। রোববারও বাড়িটিতে ভাঙচুর চলছিল বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আসামির যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমাদের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”