বাগেরহাটে ৭ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা

0
বাগেরহাটে ৭ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মুসলিমা নামে সাত বছরের এক শিশুকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মুসলিমা কোদালিয়া ইউনিয়নের ইসলাম শেখের মেয়ে। শিশুটির মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল মুসলিমা। খেলার একপর্যায়ে তাকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরাও তাদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে যোগ দেন।

সন্ধ্যার পর কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের পাড়ে পলিথিনে মোড়ানো সন্দেহজনক একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে পলিথিন সরাতেই তারা শিশু মুসলিমার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে অন্য কোনো নির্জন স্থানে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পলিথিনে মুড়িয়ে ঘেরের পাড়ে ফেলে রেখে গেছে ঘাতকরা। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নেমেছে।”

এদিকে, কোমলমতি এই শিশুটিকে কেন এবং কারা এত নির্মমভাবে হত্যা করল, তার সঠিক রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।