অস্ত্রের মুখে মজনু বাহিনীর হাতে চার জেলে অপহরণের অভিযোগ উপকূলে নতুন করে দস্যু আতঙ্ক

0
অস্ত্রের মুখে মজনু বাহিনীর হাতে চার জেলে অপহরণের অভিযোগ উপকূলে নতুন করে দস্যু আতঙ্ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের অপহরণ বাণিজ্য বনদস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আমবাড়িয়া ও কটকার কালামিয়ার ভারাণী এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে চার জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে বনদস্যু মজনু বাহিনীর বিরুদ্ধে। পৃথক চারটি মাছ ধরার নৌকা থেকে অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহাজনরা জানিয়েছেন। এ সময় পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অপহৃত চার জেলের মধ্যে তিনজনের নাম ও প্রাথমিক পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—

১. রিপন (২৬) — বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। ২. ফরিদ (৩০) — বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায়। ৩. রিপন (২৮) — বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল এলাকায়।

অপহৃত চতুর্থ জেলের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহাজনদের কাছ থেকে তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের মহাজনরা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ট্রলারযোগে জেলেবহরে এসে হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে সুন্দরবনের পৃথক স্থান থেকে চারটি মাছ ধরার নৌকা থেকে চার জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

তবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুরা কোনো মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় জেলে অপহরণের খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জেলে অপহরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। অপহৃত জেলেদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও মহাজনদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চল ও নদী-খালে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার এবং অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।