আমির নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লায় জামায়াতের অফিসে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় উত্তেজনা

0
আমির নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লায় জামায়াতের অফিসে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় উত্তেজনা

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন ও আমির নির্বাচন নিয়ে শীর্ষ নেতাদের কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরে নগরীর মোগলটুলী এলাকায় অবস্থিত মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোগলটুলীর ঐতিহ্যবাহী ‘ফারুকী হাউসে’ জামায়াতের কার্যালয়ে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো ফারুকী হাউস ও আশপাশ এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্কের ছায় বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনক্ষণ ধার্য রয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র ও নীতি অনুযায়ী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) মাহবুবুর রহমানই পরবর্তী আমির হচ্ছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে দলটির একাংশের নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। গত প্রায় এক মাস ধরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে বেনামে নানা লেখালেখি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছিল।

বুধবার সন্ধ্যায় ফারুকী হাউসের তৃতীয় তলায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম মাছুমের উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল বৈঠক চলছিল। এতে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া, একরাম হোসেন বাবু ও জামায়াত নেতা শাহীনের নেতৃত্বে একটি দল ফারুকী হাউসে যান। তারা কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম ও আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের কাছে আগামী ১৬ অক্টোবরের আমির নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরই হঠাৎ ভবনের নিচতলায় একটি বিক্ষুব্ধ গ্রুপ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ও কার্যালয়ের কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জামায়াতের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ফারুকী হাউসে এসে জড়ো হতে থাকেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

হামলা প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া বলেন “কেন্দ্রীয় নেতা আসার খবর পেয়ে আমরা আমির নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথা বলার মধ্যেই নিচতলায় কে বা কাহারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয়েছে। যতটুকু জেনেছি, দুষ্কৃতকারীরা আমাদের দলের কেউ নয়।”

তবে ঘটনার বিষয়ে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

বিষয়টিকে ‘ঘরের বিষয়’ আখ্যা দিয়ে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভেতরে কেন্দ্রীয় নেতাসহ আমাদের মিটিং চলছে, পরবর্তীতে আমরা গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাব।”

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পদ-পদবি ও নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।