বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের রিয়াদ এবং দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। গত সাত দিনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ও সংশ্লিষ্ট রুটের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশই প্রবাসী শ্রমিক।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে এই সংকটজনক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে সরাসরি ফ্লাইট এবং বিভিন্ন কানেক্টিং (ট্রানজিট) ফ্লাইট।
সরাসরি বাতিল হওয়া ফ্লাইট (মোট ৫০টি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১০টি, রিয়াদ এয়ার ১০টি
সৌদিগামী যাত্রীদের বহনকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সংযোগকারী যে ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে ইন্ডিগো এয়ার (ভারত) ২২টি, এমিরেটস এয়ার (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৯টি, সালাম এয়ার (ওমান) ৭টি, ফ্লাই দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়া (ভারত) ৫টি
সৌদি আরবের দুটি প্রধান বিমানবন্দর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সৌদিগামী বাংলাদেশী কর্মজীবী ও ওমরাহ যাত্রীরা। ভিসা ও আকামার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। এয়ারপোর্ট টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় এবং অনিশ্চয়তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলো।
পরিস্থিতি সম্পর্কে বেবিচকের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুটি গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সবশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

