‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন’: ইশরাক ইস্যুতে ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

0
‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন’: ইশরাক ইস্যুতে ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ কেউ যদি জনপ্রত্যাশা পরিপন্থী বা বিতর্কিত কাজ করে, তবে সে সরকারের যত কাছেরই হোক না কেন—প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, “বাংলাদেশে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।”

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহে নবনির্মিত প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (পিটিআই) দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে বিতর্কিত অভিযান ও পদত্যাগের গুঞ্জন ইস্যুতে সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যমান প্রচলিত আইনে এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হতে বা অংশ নিতে কোনো প্রকার আইনগত বাধা নেই। শিক্ষকরা পূর্বে যেভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেন, এবারও সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফল করতে সরকারের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সরকার আগামী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বিগত সময়ের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আরও বেশি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যথাসময়েই আপনারা এই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেখতে পাবেন।”

এছাড়া বিসিআইসি (BCIC)-এর সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ সরকারের কাছে আসেনি। সার ডিলার নিয়োগ এবং সার বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকার শতভাগ স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে।”

পিটিআই ভবন উদ্বোধনের আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

সভায় ঝিনাইদহ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দীর্ঘদিন ধরে চলা মারাত্মক জনবল সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দূর করে সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানা তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উক্ত সচেতনতা ও প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এবং পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ। জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।