২০২৭ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ ৪৬ কল-কারখানা, পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লবের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

0
২০২৭ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ ৪৬ কল-কারখানা, পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লবের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মাসুদ রানা রাব্বানীঃ বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বর্তমান বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে বন্ধ থাকা অন্তত ৪৬টি কল-কারখানা পুনঃচালুর মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড় ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্প খাতকে চাঙ্গা করার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য—মানুষের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা। শ্রমিকরা যাতে বেকার না থাকে এবং স্বসম্মানে পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে পারে, সে জন্য বন্ধ কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। এতে দেশে উৎপাদন বাড়বে এবং লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।”

উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের খরার অভিশাপ ও পানিসঙ্কট নিরসনে বিশাল পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা ও কৃষি সেচ নিশ্চিত করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে দুটি বৃহৎ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ আশেপাশের অন্তত ১৪টি জেলার মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন এবং এ অঞ্চলের পানির সংকট স্থায়ীভাবে দূর হবে।

কৃষক ও প্রান্তিক নারীদের কল্যাণে সরকারের যুগান্তকারী দুটি কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কৃষি বাঁচলে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই নীতিকে সামনে রেখে কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন ন্যায্যমূল্যে ও সহজে সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি পোষাতে ফসলের বীমা। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত আগাম তথ্য সুবিধা।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং পরিবারের ভিত্তি মজবুত করতে পরিবারভিত্তিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।

পরিবারের মায়ের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা সরাসরি প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “একটি গ্রামের পরিবার যদি আত্মনির্ভরশীল হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পুরো বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।”

দেশের প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে আগামী ৫ বছরের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে নারী ও শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা শয্যা ব্যবস্থা। প্রান্তিক পর্যায়ে কিডনি রোগীদের সুবিধার জন্য উপজেলা হাসপাতালেই থাকবে ডায়ালিসিস সুবিধা।

দেশে একটি চক্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে বলেন, “দেশের মানুষ এখন আর রাজনীতি নিয়ে হাঙ্গামা চায় না, তারা চায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। জনগণ চায় কর্মসংস্থান, নিরাপদ জীবন এবং শান্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে। বিএনপি সরকার জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।”

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা লাখো মানুষের সমাগমে মাদরাসা মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।