সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শিল্পে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো হচ্ছে বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0
সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শিল্পে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো হচ্ছে বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাইফুল ইসলাম কবিরঃ শ্রমিকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির আড়ালে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস ও শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি মহলই এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিক ভাই-বোনদের জন্য আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের বড় প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কৌশলগত কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। “সীমান্তের ওপার থেকে চক্রান্ত, শ্রমিকরা কখনো নিজের কারখানার ক্ষতি করে না”

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক এ পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৫০ বছরে দেশে যে শিল্পকারখানাগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলো আজ বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছেন। এই কারখানাগুলো প্রতিটি নাগরিকের সম্পদ, দেশের সম্পদ।”

উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের প্রতি কড়া ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে আমরা লক্ষ্য করছি—একটি বিশেষ গোষ্ঠী সুযোগ বুঝে বিভিন্ন কলকারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো সৎ ও প্রকৃত শ্রমজীবী ভাই-বোন কিংবা শ্রমিক কখনো নিজের রুটি-রুজির জায়গা ও দেশের সম্পদের ক্ষতি করতে পারেন না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫-১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “একটি মহল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে মানুষের ভোটাধিকার কেড়েই নেয়নি, বরং দেশের অর্থ-সম্পদ অবাধে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত হয়ে যারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই আজ ওপার থেকে নতুন করে ষড়যন্ত্রের সুতা টানছে। দেশের অর্থনৈতিক গতি থামিয়ে দিতেই শিল্পখাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়া হচ্ছে।”

শিল্পের সুরক্ষার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্রমিক ভাই-বোনদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরি নিয়ে যেসব দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ও সহানুভূতিশীল। তাদের যুক্তিসংগত দাবিগুলো পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজও শুরু করে দিয়েছে।”

তিনি ঘোষণা দেন, “ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই পোশাকখাত সহ শ্রমিকদের নতুন সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণা করা হবে, যাতে আমাদের শ্রমজীবী ভাই-বোনেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো ও শান্তিতে থাকতে পারেন।”

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন—শেখ রবিউল আলম নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী, মো. রাজিব আহসান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, সোমনাথ দে ও কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল জেলা বিএনপি নেতা সহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।