
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ অনিয়ম ও দুর্নীতির থাবায় দেশের ঐতিহ্যবাহী বহু সমবায় সমিতি তাদের মূল কার্যকারিতা হারিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিদ্যমান এ সংকট থেকে বেরিয়ে এসে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সমবায় ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
সমবায় আন্দোলনের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সমবায় শুধু সাধারণ পণ্য উৎপাদন কিংবা কেনাবেচার ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক বিকাশ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা। এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায় আন্দোলনকে মূল হাতিয়ার হিসেবে পুনর্গঠন করতে হবে।’
বক্তব্যে তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোটবেলায় ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি ছোট মহকুমা শহরেও সমবায় কার্যক্রমের ব্যাপক প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখেছি। সেখানে সমবায়ীদের নিজস্ব ভবন, হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) ও সুসজ্জিত মার্কেট ছিল। তৎকালীন সমাজ ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও পরম আগ্রহে সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এবং নীতি-নৈতকতার অবক্ষয়ে আজকের সমবায় কার্যক্রমের সেই রূপ অনেকটাই মলিন হয়ে গেছে। একসময় যে আন্দোলন ঘিরে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য ছিল, এখন তা হারিয়ে যাচ্ছে।’
বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নানা প্রতিকূলতায় বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকটসহ পুরো অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা পুনরায় সচল করতে এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সমবায় খাতকে অনিয়মমুক্ত করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বচ্ছতার অভাবে ও দুর্নীতির কারণে বহু সমবায় সমিতি তাদের স্থায়িত্ব ও জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।’
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সমবায় খাতের সার্বিক উন্নয়ন, সফল উদ্যোগ এবং নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিদের হাতে ‘জাতীয় সমবায় পুরস্কার’ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট সমবায়ী এবং গুণীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
