রংপুরে বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবের তিনটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা

0
রংপুরে বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবের তিনটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা

জয়নাল আবেদীন: রংপুরে বুধবার রাতে বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়। পরে সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এসময় শিক্ষার্থীসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা চত্বরটিকে মুক্তমঞ্চ নামে ঘোষণা দেন এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম মুছে দিয়ে ‘বিজয় ২৪’ হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ফলকও ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে তারা ভেঙে ফেলা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে শেখ হাসিনার ব্যঙ্গচিত্র দাহ করে উল্লাস প্রকাশ করে।রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর কলেজ রোড লালবাগ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হয়ে কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা মূল ফটকের সামনে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি হাতুড়ি, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ভাঙচুর করে । রাত পৌনে ১টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরালটি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে ক্ষতবিক্ষত করে শহীদ আবু সাঈদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার সাঁটানো হয়েছিলো।

সেময় স্থানটির নামকরণ করা হয় স্বাধীনতা চত্বর।এদিকে ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব রাজিমুজ্জামান হৃদয় বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কারমাইকেল কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিব ম্যুরালের কবর রচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুলডোজার দিয়ে ফ্যাসিবাদী মুজিব চিহ্ন মুছে দেয়া হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, শেখ হাসিনা লাইভে এসে ছাত্র- জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের বুলডোজার কর্মসূচি। আমার ভাইদের রক্তের দাগ না শুকাতেই খুনি হাসিনা প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখায় কী করে? ফ্যাসিবাদকে এ দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেরোবি শাখার সদস্য সচিব রহমত আলী বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনা দেশব্যাপী যে ফ্যাসিবাদী চিহ্ন রেখে গেছেন, আমরা তা নিশ্চিহ্ন করতে আজ একত্রিত হয়েছি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে, যতক্ষণ না ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।