জি.এম.মিন্টু : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন। কারণ এখানে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তুনামূলক তরুণ, মেধাবী, সংগঠক এবং ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সভাপতি হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন দলীয় প্রার্থী হিসেবে এবং দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনিই বিএনপির ঘোষিত তালিকার সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী।
৪০ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা ইতোমধ্যেই কেশবপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণ, বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণরা তাকে দেখছেন পরিবর্তনের দূত হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ট্রেন্ড করছে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস, মাঠঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানে আলোচনায় ‘শ্রাবণ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতির মাঠে : কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের যাত্রা শুরু যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রাম থেকে। কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে (২০০৩-০৪ সেশন)। পরবর্তীতে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে অধ্যয়নকালেই তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন (২০২২)। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছিল তার রাজনীতির মাঠ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর বক্তা, সাহসী সংগঠক ও সংগঠনমুখী ছাত্রনেতা। অল্প সময়েই তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালের আগস্টে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে সভাপতি পদ থেকে সরানো হলেও দুই মাসের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করে তাকে ফিরিয়ে আনা হয় যা দলের প্রতি তার গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।
দলের ভরসা, তরুণদের আশা : প্রার্থী ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় কাজী রওনকুল ইসলাম বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। কেশবপুরে দীর্ঘদিন ধরে ধানের শীষ বিজয়ী হয়নি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটে এই আসন পুনরুদ্ধার হবে। দল আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার প্রতিদান আমি জনসেবার মাধ্যমে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন : বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে তরুণদের কর্মসংস্থানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে কেশবপুরের যুবসমাজকে দক্ষ, মেধাবী ও উৎপাদনক্ষম জনসম্পদে পরিণত করতে কাজ করবো। মাদকমুক্ত কেশবপুর, কর্মসংস্থানে শক্তিশালী কেশবপুর এটাই হবে আমার লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের পেরণা : শ্রাবণকে ঘিরে কেশবপুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত তিনি দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া কার্যক্রম ও স্থানীয় উন্নয়ন ভাবনায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করতে চান। তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান তিনি সবার সঙ্গে সদালাপী, বন্ধুসুলভ, সহজপ্রাপ্য এবং রাজনৈতিক কৌশলে আধুনিক। দলের ভেতর থেকেও তাকে স্মার্ট লিডার বলে অভিহিত করা হয়। এছাড়া স্বল্প সময়ে কৃষিনির্ভর জনপদ কেশবপুরের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বাসের নাম। স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত যুবসমাজ বলছেন শ্রাবণ কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ করতে চান।
কেশবপুরে রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্ন মাত্রা : কেশবপুর আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে এখানে এখনও বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন দলীয় সিনিয়র নেতাদের বাইরে গিয়ে এবার বিএনপি তরুণ প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামায় এখানে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। শ্রাবণের প্রার্থী হওয়া নিয়ে একজন প্রবীণ রাজনীতিক বলেন : দীর্ঘদিন পর কেশবপুরে এমন একজন প্রার্থী এসেছে যিনি নতুন প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে পারবেন। দলও যেমন লাভবান হবে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী কেশবপুরের রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে।
শ্রাবণের নির্বাচনী অঙ্গীকার : কেশবপুরে ‘তরুণ উন্নয়ন তহবিল’ গঠন, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান,মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিকাশ,স্মার্ট কেশবপুর গড়তে আইটি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা,দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তরুণ নেতৃত্ব ব্যাচ চালু
রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের দাবিদার সবচেয়ে বড় শব্দ তারুণ্য। সেই তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন একজন সংগঠক, শিক্ষিত মেধাবী, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং আধুনিক নেতৃত্বের প্রতীক। আগামী নির্বাচনে তিনি কি পারবেন কেশবপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে অভাবনীয় বদল আনতে? সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতোমধ্যেই একটি জিনিস স্পষ্ট বিএনপির প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে তারুণ্যের হাত ধরেই আর সেই নাম কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

