মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিলের অভিযোগ

0
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিলের অভিযোগ

আরিফুর রহমান : মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা, দলিল লেখক ও সাব- রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে মৃত নারীকে ‘জীবিত’ সাজিয়ে কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের মৃত রেহানা বেগম ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর মারা যান। তিনি মৃত্যুর আগে ঢাকার বাসাবো এলাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তার মৃত্যুসনদ প্রদান করেন। অথচ ওই মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দলিল সম্পাদন করা হয়। দলিল নম্বর ৪৫৮৩/২৪। এতে ২৪.৪৭ শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ টাকা। জমিটি দক্ষিণ ধূয়াসার মৌজার ৬৩৩ খতিয়ান ও ৫৪৪ দাগে অবস্থিত। ক্রেতা হিসেবে নাম রয়েছে মো. বাবুল হাওলাদার ও কোহিনুর বেগমের।

তদন্তে জানা যায়, মৃত রেহানা বেগমের ভোটার আইডি ব্যবহার করে অন্য এক নারীকে জীবিত রেহানা বেগম সাজানো হয়। আসলে তিনি রেহানার বড় ভাইয়ের স্ত্রী সিমা আক্তার। তার বাবার নাম লতিফ খন্দকার ও ঠিকানা এওজ গ্রাম। ওই নারী মৃত রেহানার ঠিকানা ব্যবহার করে দলিলে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগ উঠেছে, এই জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী কালকিনি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু হাওলাদার ও উপজেলা দলিল লেখক মিজানুর রহমান। তাদের সহযোগিতা করেন তৎকালীন সাব- রেজিস্ট্রার আহসানুল হক। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মৃত রেহানার জমি জাল দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।

মৃত রেহানার বোনের মেয়ে ফাতেমা আক্তার বলেন,“আমার খালা ২০২১ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু হাওলাদার ও দলিল লেখক মিজানুর রহমান খালার নাম ব্যবহার করে জমি বিক্রি করে দেয়। আমরা এর ন্যায়বিচার চাই।”

রেহানার বোনের ছেলে আবদুস সামাদ বলেন,“যারা মৃত মানুষকে জীবিত সাজিয়ে দলিল করেছে, তাদের কঠোর শাস্তিচাই।”

এ ঘটনায় মৃত রেহানার উত্তরাধিকারীরা ১০ জনকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, “ জীবিত ব্যক্তিকে মৃত্যু দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের একটি ঘটনায় তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।” এ বিষয়ে নিজের অপরাধ অস্বীকার করে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আহসানুল হক বলেন, “জমিদাতার নামের সামান্য তারতম্য থাকতে পারে। তবে দলিল লেখক তথ্য গোপন করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে অভিযুক্ত দলিল লেখক মিজানুর রহমান ও আ.লীগ নেতা নান্নু হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।