তৃতীয় দিনের মতো ভূঞাপুরে প্রাথমিক শিক্ষকদের পরীক্ষা বর্জন, চলছে কর্ম বিরতি

0
গোবিন্দাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে।

ভূঞাপুর প্রতিনিধি: তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে করছেন কর্ম বিরতি। কর্মবিরতির মধ্যেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দপ্তরি দিয়ে নেয়া হচ্ছে পরীক্ষা। এদিকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা না নেয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। সে ঘোষণার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকেই কর্মবিরতি ও পরিক্ষা বর্জন করেন শিক্ষকরা।

তারা জানান, দাবি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আজও পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সারাদেশে সব বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। দাবি পূরণ না করা হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

শিক্ষকরা জানান, দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। তবে সরকার দশম গ্রেড দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। শিক্ষকরাও আপাতত সেই প্রতিশ্রুতির (১১তম গ্রেড দেওয়ার) বাস্তবায়ন দাবি করেন।

গোবিন্দাসী সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে রয়েছে। আমি পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছে। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আক্তার ভানু বলেন, সহকারি শিক্ষকদের তিনটি দাবি নিয়ে কর্মবিরতিতে রয়েছে। আমরা চাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে শিক্ষকরা কাজে যোগদান করুক।