আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে চলমান অস্থিরতা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এদিকে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সকল মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (HRANA)-এর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৩৮ জন। এর মধ্যে ৪৯০ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়: গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনরোষ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং রয়টার্সও স্বতন্ত্রভাবে এই সংখ্যাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ না করতে ইরানকে সতর্ক করেছেন। রোববার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর কিছু বিকল্প বিবেচনা করছি।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের টেবিলে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সরাসরি সামরিক হামলা। গোপন সাইবার অপারেশন। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা। বিক্ষোভকারীদের অনলাইন ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান।
আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের এই অবস্থানে ফুঁসে উঠেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব’ না করার জন্য সতর্ক করেছেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানে কোনো হামলা চালানো হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল), পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি এবং যুদ্ধজাহাজ আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কালিবাফের এই বক্তব্য সরাসরি যুদ্ধের উসকানি হিসেবে কাজ করতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানে ইন্টারনেট শাটডাউন এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক মহল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

