উপদেষ্টা পরিষদের চেয়েও ক্ষমতাধর আমলাতন্ত্রের একাংশ: টিআইবি’র চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ

0
উপদেষ্টা পরিষদের চেয়েও ক্ষমতাধর আমলাতন্ত্রের একাংশ: টিআইবি’র চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় উপদেষ্টাদের চেয়েও আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশ বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় এই প্রভাবশালী গোষ্ঠী ‘অন্তর্ঘাতমূলক’ ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে খর্ব হচ্ছে জনস্বার্থ।

সোমবার বেলা ১১টায় ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদ কোন কাগজে স্বাক্ষর করবে বা কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরা ঠিক করতে পারছেন না। বরং আমলাতন্ত্রের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ক্ষমতাবান একটি গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় সরকারকে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো সিদ্ধান্তে কোন উপাদান থাকবে আর কোনটি বাদ যাবে, তা নির্ধারণে আমলাদের গোষ্ঠীস্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলন ঘটছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে, তার দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে। টিআইবি মনে করে:

অংশীজনদের উপেক্ষা: অধিকাংশ অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।

লোকদেখানো স্বচ্ছতা: কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসড়া অধ্যাদেশ নামমাত্র সময়ের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার দায় সারার চেষ্টা করা হয়েছে।

অপপ্রচার ও অবহেলা: যারা গঠনমূলক সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের পরামর্শ তো গ্রহণ করা হয়নিই, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি পর্যায় থেকে অপপ্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি খাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছে: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশ্‌ সাইবার সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় ক্ষমতাসীন ও আমলাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সংস্কারের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর গঠিত এই সরকার আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশের উদাহরণ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংস্কারের নামে পুরাতন প্রশাসনিক কাঠামোর বলয় থেকে বের হতে না পারলে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না।