
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল যদি কোনো ধরনের নতুন সামরিক দুঃসাহস বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে বৈশ্বিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে তার ‘ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া’ পড়বে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে সতর্ক করেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল কর্তৃক উসকানিমূলক যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে নজিরবিহীন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পারস্য উপসাগরের ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের যে নির্ভরশীলতা রয়েছে, তাতে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি রপ্তানিকারক ও ভোক্তা দেশ—উভয়পক্ষের জন্যই তা গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আয়োজিত গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোটের (GECF) শীর্ষ সম্মেলন শেষে এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আরাঘচি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ওই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
সম্মেলন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, মস্কো সম্মেলনের মাধ্যমে ইরান তার ‘শক্তি কূটনীতি’ (Energy Diplomacy) সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং বিশ্বমানের গ্যাস বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আকস্মিক আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিরতার সূচনা হয়েছিল, তা থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা জোরালো করেছে, যা পুরো অঞ্চলের ভৌগোলিক রাজনীতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এদিকে, ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের জটিল প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ইরানের তৈরি করা ‘অস্তিত্বের হুমকি’ স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই যৌথ অবস্থানের কারণেই পারস্য উপসাগরে সামরিক অভিযানের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ইরান মূলত তার বিপরীতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের এ আগাম হুঁশিয়ারি দিল।
