আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। ভিসা যাচাই এবং নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের দরজা বন্ধ থাকবে। স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে রাশিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনকল্যাণমূলক খাতের অর্থের অপব্যবহার রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। বিশেষ করে সোমালি নাগরিকদের মাধ্যমে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পর এই সিদ্ধান্ত জোরালো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, যারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের কড়াকড়ি।
নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে যোগ হয়েছে বেশ কিছু কঠিন শর্ত। এখন থেকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলা হয়েছে:
আর্থিক স্বচ্ছলতা: আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করবেন কি না। শারীরিক অবস্থা: বয়স, ওজন এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না। ভাষাগত দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা। অতীত রেকর্ড: অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সরকারি নগদ সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস।
পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও এটি আসলে মার্কিন কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুরক্ষার একটি অংশ। এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে উচ্চশিক্ষা, ভ্রমণ কিংবা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন।

