দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি: আজও রাজধানীর তিন মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

0
দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি: আজও রাজধানীর তিন মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজও রাজপথ অবরোধের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন’ কমিটি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সভায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিমার্জিত খসড়া অনুমোদন করতে হবে এবং দ্রুত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাঈম হাওলাদার জানান, প্রশাসনিক জটিলতা ও সেশনজট নিরসনে সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন এখন সময়ের দাবি।

গতকাল বুধবারও একই দাবিতে রাজধানীর এই পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ সময় অবরোধ চলে। এর ফলে মিরপুর রোড, পুরান ঢাকা ও মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা কার্যত পুরো শহরকে স্থবির করে দিয়েছিল। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছাড়লেও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। আজ আবারও একই কর্মসূচি থাকায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই কাঠামোর একটি বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট। খসড়ায় কলেজগুলোকে অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ‘সংযুক্ত’ রাখার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি— পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর প্রতিফলন থাকতে হবে।

২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই সাত কলেজকে অধিভুক্ত করার পর থেকেই সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বসহ নানা প্রশাসনিক সংকট ঘনীভূত হতে থাকে। দীর্ঘ কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীরা এখন আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় যদি তাদের দাবির স্বপক্ষে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে তারা আরও কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।