কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর এক মা ও তার কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাট থেকে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই শিক্ষিকাসহ একই পরিবারের চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) এবং তার মেয়ে জুবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। পুলিশ জানায়, শিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে মায়ের এবং বাথরুমের ফলস ছাদ (ছাদের ভেতরের ফাঁকা অংশ) থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন বদ্ধ ঘরে থাকায় লাশ দুটি প্রায় কঙ্কালসার ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। গতকাল বিকেলে ওই বাসা থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা তার শিক্ষিকা মিমের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যায় মিম ফোন করে ফাতেমার মা রোকেয়াকেও ওই বাসায় ডেকে নেন। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ ২৭ ডিসেম্বর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন।
ওসি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে ফাতেমাকে মিমের বাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও তার মাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নিহত ফাতেমা স্থানীয় সততা স্কুল থেকে জেএসসি পাস করে কালিন্দী গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল। শোকে স্তব্ধ বাবা শাহিন আহমেদ বলেন, “মেয়ের ভালো পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষিকার কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেই শিক্ষিকাই আমার সব কেড়ে নিল। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ বিচার চাই।”
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন বেপারী এবং মিমের দুই বোন নুসরাত জাহান ও মাহিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

