আদালত প্রতিবেদকঃ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের আরও দুই দুর্নীতির মামলার রায় হতে যাচ্ছে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং ভাগ্নি আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর নামে বরাদ্দ করা দুটি প্লট নিয়ে এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম।
ইতিমধ্যেই এই সিরিজের আগের চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সাজার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এ ছাড়া সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই মামলায় ১৮ জন করে আসামি রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোট ভাই ববি ও বোন রূপন্তীর প্লট বরাদ্দে খালা শেখ হাসিনার ওপর ‘বিশেষ প্রভাব’ খাটিয়ে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। এমনকি হলফনামায় তথ্য গোপন করে প্লট বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
বিগত সরকারের আমলে পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ নিয়েছিল হাসিনা পরিবার। এর মধ্যে: শেখ হাসিনা: প্লট নং-৯, শেখ রেহানা: প্লট নং-১৩, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি: প্লট নং-১১, আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তী: প্লট নং-১৯, সজীব ওয়াজেদ জয়: প্লট নং-১৫, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: প্লট নং-১৭
দুদকের কৌঁসুলি তরিকুল ইসলাম বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা অভিযোগগুলো আদালতে উপস্থাপন করেছি। ববির মামলায় ২৮ জন এবং রূপন্তীর মামলায় ৩০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমরা আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।”
আজ এই রায়ের মধ্য দিয়ে পূর্বাচল প্লট দুর্নীতিতে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলারই বিচারিক কার্যক্রমের প্রাথমিক সুরাহা হবে। তবে আসামিদের মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম ছাড়া বাকি সবাই পলাতক রয়েছেন।

