ভয়কে পেছনে ফেলে কেন্দ্রে যান: ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দিতে দেশবাসীর প্রতি ড. ইউনূসের উদাত্ত আহ্বান

0
ভয়কে পেছনে ফেলে কেন্দ্রে যান: ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দিতে দেশবাসীর প্রতি ড. ইউনূসের উদাত্ত আহ্বান

আজকের ডেস্কঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোটের ঠিক আগমুহূর্তে জাতির উদ্দেশে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এবারের ভোট শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং গত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিবাদ’ ও ‘গণতন্ত্রহীনতার’ বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী জবাব।

ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে ১২ ফেব্রুয়ারির দিনটিকে ‘ভবিষ্যৎ নির্ধারণী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এবার দুটি ঐতিহাসিক কাজ একসাথে হতে যাচ্ছে—একদিকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন, অন্যদিকে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো বা ‘জুলাই সনদ’ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে।”

ভাষণের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাঁদের কাছে চিরঋণী।

এবারের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের প্রচারণা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ। তবে প্রচারণা চলাকালে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির জন্য তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এবারের নির্বাচনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক তিনি তুলে ধরেন: ৫১টি (এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ)। স্বতন্ত্রসহ ২ হাজারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও অবিচারের বিরুদ্ধে এটিই জনগণের প্রথম সাংবিধানিক প্রকাশ।

যাঁরা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি, সেই তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায় যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না। আজ সেই বঞ্চনার জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।” নারী ভোটারদের অদম্য শক্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল সম্মুখসারির যোদ্ধার মতো, তাই রাষ্ট্র গঠনেও তাঁদের রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নির্বাচনের পর সবাইকে মিলেমিশে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার অনুরোধ জানান তিনি।