ভোটের আগের রাতে উত্তপ্ত রাজনীতি: জামায়াতের ‘টাকা নাটক’ নিয়ে ইসিতে বিএনপির কড়া নালিশ

0
ভোটের আগের রাতে উত্তপ্ত রাজনীতি: জামায়াতের ‘টাকা নাটক’ নিয়ে ইসিতে বিএনপির কড়া নালিশ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকাসহ জামায়াত নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে গিয়ে কড়া প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘নাটক’ দাবি করা হলেও নজরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন—এই নাটকে জামায়াতও সরাসরি যুক্ত কি না।

বুধবার রাতে ইসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন তোলেন বিমানবন্দরের একটি ঘটনা নিয়ে। তিনি বলেন, “টাকা বহনে যদি আইনগত সীমাবদ্ধতা নাই থাকে, তবে কেন কাস্টমসের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হলো? এই কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সন্দেহজনক। ব্যবসায়ের কাজে টাকা কেউ নিতেই পারে, কিন্তু এই বিশেষ সময়ে এমন ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য?”

তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত যদি একে নাটক বলে থাকে, তবে সেই নাটকে তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার।

নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা ইসির কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও দাবি জানান: সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন স্থানে টাকাসহ জামায়াত নেতাদের আটকের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর, সিরাজগঞ্জের কামারগঞ্জ, বরগুনার পাথরঘাটা, নোয়াখালীর গনিপুর এবং ময়মনসিংহের ধোবাউড়াসহ বিভিন্ন স্থানে টাকা, অস্ত্র ও নির্বাচনী পণ্য বিতরণের সময় আটকের তথ্য তুলে ধরেন।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের ঘটনাকে তিনি ‘অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি খুবই অন্যায়, আমরা তদন্ত ও শাস্তি চাই। কিন্তু এই ঘটনা তারাই (জামায়াত) ঘটিয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার।”

নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, “যারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে, তাদের সচেতন জনগণই প্রতিহত করবে। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে আরও বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারতো।”

বিএনপি প্রতিনিধিদল ইসিকে অনুরোধ করেছে যেন এসব অর্থ ও অস্ত্র আটকের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করা হয়। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কমিশনকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তারা।