দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিয়ে আনন্দিত শ্যামনগরের ভোটাররা, ১১০ বছরের বৃদ্ধার সপরিবারে ভোটদান

0
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিয়ে আনন্দিত শ্যামনগরের ভোটাররা, ১১০ বছরের বৃদ্ধার সপরিবারে ভোটদান

শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী উপজেলা শ্যামনগরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে উপকূলের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।

উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ২৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় এক আবেগঘন দৃশ্য। ১১০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয় করে ভোট দিতে এসেছেন। সাথে এনেছেন তার ৭৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়ে ফুলি এবং ৯০ বছর বয়সী বেয়ান নূরজাহানকে।

ভোট দেওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আলেয়া বেগম বলেন, “১৭ বছর ভোট দিতে পারি না। এবার মন খুলে পছন্দের মানুষকে ভোট দিয়েছি। আমার জীবনে আর কখনো ভোট দিতে পারব কিনা জানি না, তাই এটাই হয়তো শেষ ভোট। আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।”

সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ৯৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ভোটার ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৪৭ জন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী: ডঃ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), গাজী নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), হাজী মনির (হাতপাখা),অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)

স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূলত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট দিতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “কে কাকে ভোট দিল সেটা বড় কথা নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ যে উৎসবে মেতেছে সেটাই বড় বিষয়। এই পরিবেশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ।”

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক জানিয়েছেন, নির্বাচনী এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।