ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা! ফেনীতে তুলকালাম

0
ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা! ফেনীতে তুলকালাম

ফেনী প্রতিনিধিঃ ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার হলেও, সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই ঘর ভাঙল ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরার। স্বামীর নিষেধ অমান্য করে জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়ায় তাকে মৌখিক ‘তিন তালাক’ দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন কাওসার। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে; বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত স্বামীকে গণধোলাই দিলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা এলাকায়। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ওই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন সকালে কাওসার ঘুমিয়ে থাকাকালীন তার স্ত্রী বিবি জহুরা উৎসাহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান। তিনি এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। ভোট দিয়ে এসে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সংসারের কাজ ও রান্নাবান্না করেন।

বিকালে ঘুম থেকে উঠে কাওসার লোকমুখে শুনতে পান যে তার স্ত্রী ভোট দিয়েছেন। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর বাড়ির পাশের রাস্তায় সবার সামনেই স্ত্রীকে জেরা করেন তিনি। জহুরা সত্য স্বীকার করলে কাওসার তৎক্ষণাৎ তাকে মৌখিক তিন তালাক দেন এবং ঘরে ঢুকতে নিষেধ করেন।

অমানবিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কাওসারকে আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাওসার প্রথমে তালাক ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কৌশলে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই কাওসার এলাকায় উগ্র মেজাজ ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন। এমনকি এর আগেও তিনি তার শ্বশুরকে মারধর করেছেন বলে জানা গেছে।

২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির ঘরে ১২, ৮ ও ৪ বছর বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। স্বামীর এমন আকস্মিক ও নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে তিন সন্তান নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদের ভাষ্য: “কাওসার বরাবরই উগ্র প্রকৃতির লোক। এর আগেও তার পারিবারিক কলহ নিয়ে বহুবার বিচার-সালিশ হয়েছে। একজন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকারে বাধা দেওয়া এবং এর জন্য স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”